ভারতের ঋণ কত ২০২৪, ভারতের মাথাপিছু ঋণ কত 2024,

কমেছে অর্থছাড়, যাচাই–বাছাই হবে ভারতীয় ঋণের প্রকল্প

ভারতীয় ঋণের অর্থছাড়ে দেখা যাচ্ছে কমতি, এবং প্রকল্পগুলোর যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। গত সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ভারত মাত্র আট কোটি ডলারের মতো অর্থছাড় করেছে। ভারতীয় গুচ্ছ ঋণ বা লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) মাধ্যমে এই অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। একদিকে কমছে অর্থছাড়, অন্যদিকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি মিলছে না।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য থেকে জানা গেছে যে, এলওসির আওতায় প্রকল্পগুলো এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এর জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর থেকে ভারতের বেশ কয়েকটি প্রকল্পে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। গত আগস্টে দেশে সরকার পরিবর্তনের পর আশুগঞ্জ-আখাউড়া চার লেন সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ভারতীয় ঠিকাদাররা তাদের কর্মীদের নিয়ে দেশে ফিরে গিয়েছিলেন, যার ফলে প্রকল্পের কাজ চার মাসের জন্য থেমে ছিল। এছাড়া, আরও কিছু প্রকল্পে ভারতীয় ঠিকাদারদের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এলওসির আওতায় অর্থছাড় কমে গেছে বলে ইআরডি কর্মকর্তারা ধারণা করছেন। বর্তমানে ভারতীয় ঋণে পরিবহন ও অবকাঠামো খাতের আটটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।

এদিকে, গত জুলাই-জানুয়ারি পর্যন্ত এলওসির আওতায় ভারতের অর্থছাড় ছিল মাত্র ৮ কোটি ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এ সময়ে ভারত নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। গত অর্থবছরের পুরো সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ঋণ ছাড়ের পরিমাণ অনেক কম, যা ছিল গত বছরের চার ভাগের এক ভাগ।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নতুন পরিস্থিতির কারণে এখন প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে, যাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কোন প্রকল্প এগিয়ে যাবে এবং কোনটি পিছিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, এলওসির আওতায় যেসব প্রকল্প রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এ ছাড়া প্রকল্পের কেনাকাটার শর্তগুলোর শিথিলতার বিষয়ে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তা দেখার বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমানে, জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ভারত ১৮৮ কোটি ডলারের ঋণ ছাড় করেছে এলওসির আওতায়। ২০১০, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনটি এলওসির মাধ্যমে বাংলাদেশকে ৭৩৬ কোটি ডলারের ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারত কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থছাড়ের হার কাঙ্ক্ষিত হয়নি।

গত পাঁচ বছরে, সর্বশেষ তিন বছরে ভারত ৩০ কোটি ডলারের বেশি অর্থছাড় করেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক ৩১ কোটি ১৪ লাখ ডলার ছাড় করেছে, এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩২ কোটি ৯৩ লাখ ডলার ছাড় হয়েছিল। কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে মাত্র ১৪ কোটি ১১ লাখ ডলার ছাড় হয়েছিল, তার আগের বছর ১৪ কোটি ৮ লাখ ডলার ছাড় হয়েছিল।

এলওসির আওতায় বাংলাদেশে সড়ক ও রেল যোগাযোগ, জ্বালানি, অবকাঠামো খাতের মোট ৩৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি প্রকল্প শেষ হয়েছে, আর আটটি প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে। বাকি ১৩টি প্রকল্প পরামর্শক নিয়োগ কিংবা প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির স্তরে রয়েছে। বর্তমানে, দুই দেশের মধ্যে প্রকল্প তালিকা যাচাই-বাছাই করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

এলওসি পর্যালোচনা সভা চলতি বছরের ৫ ও ৬ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে প্রকল্প তালিকা পুনরায় যাচাই-বাছাই করার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এই যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে, যা প্রকল্পগুলোর দীর্ঘসূত্রিতার কারণ বিশ্লেষণ করবে এবং সমাধান সুপারিশ করবে। প্রয়োজনে কমিটি কিছু প্রকল্প বাদ দেওয়ারও সুপারিশ করতে পারে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *