প্রিমিয়ার সিমেন্টের সাথে একীভূত হতে যাচ্ছে তার দুই সহযোগী কোম্পানি ন্যাশনাল সিমেন্ট মিলস ও প্রিমিয়ার পাওয়ার জেনারেশন। এই একীভূতকরণের মাধ্যমে খরচ কমানোর পাশাপাশি কোম্পানিটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রিমিয়ার সিমেন্টের পরিচালনা পর্ষদ সম্প্রতি একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং শেয়ারবাজারের মাধ্যমে এটি শেয়ারধারীদের জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় ন্যাশনাল সিমেন্ট মিলস ও প্রিমিয়ার পাওয়ার জেনারেশনকে একীভূত করার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়।
বর্তমানে তিনটি কোম্পানি আলাদাভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যার ফলে একাধিক প্রশাসনিক খরচ রয়েছে। একীভূত হওয়ার পর এই খরচ কমবে এবং প্রিমিয়ার সিমেন্টের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও দক্ষ হবে, এমনটা আশা করা হচ্ছে।
প্রিমিয়ার সিমেন্ট জানিয়েছে, ন্যাশনাল সিমেন্ট মিলস ও প্রিমিয়ার পাওয়ার জেনারেশন প্রিমিয়ার সিমেন্টের সঙ্গে একীভূত হয়ে যাবে। বর্তমানে, এই দুটি কোম্পানির মালিকানা একটি বড় অংশ প্রিমিয়ার সিমেন্টের হাতে রয়েছে, তবে একীভূত হওয়ার পর সম্পূর্ণ মালিকানা প্রিমিয়ার সিমেন্টের কাছে চলে আসবে। এ ধরনের পরিবর্তন সত্ত্বেও, কোম্পানির আলাদা সত্তা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
এছাড়া, প্রিমিয়ার সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একীভূতকরণের পর এসব কোম্পানির আয়ের সমস্ত পরিমাণ প্রিমিয়ার সিমেন্টের আয়ের সাথে যুক্ত হবে। বর্তমানে, ন্যাশনাল সিমেন্টের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ লাখ মেট্রিক টন, এবং কোম্পানিটির বার্ষিক আয় ছিল ৪৯৪ কোটি টাকা, যেখানে লাভ ছিল প্রায় সোয়া এক কোটি টাকা। একীভূত হলে, এই আয়টি প্রিমিয়ার সিমেন্টের আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
অপরদিকে, প্রিমিয়ার পাওয়ার জেনারেশনের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫ মেগাওয়াট, যা প্রিমিয়ার সিমেন্টের কারখানায় ব্যবহৃত হয়। এই কোম্পানির বার্ষিক ব্যবসা ছিল সাড়ে ১০ কোটি টাকা, তবে বছরে এক কোটি ৩২ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
একীভূত হওয়ার পর প্রিমিয়ার সিমেন্টের শেয়ার সংখ্যা তিন কোটি বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন শেয়ারগুলো ইস্যু করতে হবে। এসব শেয়ার ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের হাতে থাকা ন্যাশনাল সিমেন্ট ও প্রিমিয়ার পাওয়ার জেনারেশনের শেয়ার মালিকানার বিনিময়ে দেওয়া হবে। এ মাধ্যমে, প্রিমিয়ার সিমেন্টের পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে।
প্রিমিয়ার সিমেন্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোম্পানির একীভূতকরণের ফলে কর্মী সংখ্যা ২ হাজার ৬৮৭ জনে পৌঁছাবে, তবে একীভূত হওয়া সত্ত্বেও কোনো কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হবে না। সমস্ত কর্মীই প্রিমিয়ার সিমেন্টের অধীনে কাজ করবেন।
এছাড়া, এই একীভূতকরণের মাধ্যমে প্রিমিয়ার সিমেন্টের খরচ কমবে, এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হবে বলে মনে করছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।